প্রখ্যাত মুফাসসির ড. মিজানুর রহমান আজহারি-র 'এক নজরে কুরআন' বইয়ের অনুপ্রেরণায় নির্মিত— ছোটদের এক নজরে কুরআন
🔐 লগইন
👨‍👩‍👧 সন্তানকে কুরআন শেখানোর এক অনন্য নিয়ামত ✨ শিশুদের ভার্চুয়াল কুরআনিক স্টুডিও

এসো আনন্দের সাথে শিখি
‘ছোটদের এক নজরে কুরআন’

সহীহ তিলাওয়াত, মিষ্টি অনুবাদ, শানে নুযূলের কার্টুন গল্প, তাদাব্বুর এবং মজার কুইজ দিয়ে সাজানো প্রতিটি সূরা!

[ ফেজ-১: প্রিমিয়াম কিডস এডিশন ]

📖 জীবন গড়ার প্রথম পাঠ: নির্বাচিত সূরাসমূহ

প্রাথমিক স্তর অর্থ, শানে নুযূল ও তাদাব্বুরসহ মোট ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ সূরা।
1

সূরা আল-ফাতিহা

অর্থ: "শুরু বা ভূমিকা"

মাক্কী • 7 আয়াত
الفَاتِحَة
93

সূরাতুদ দুহা

অর্থ: "পূর্বাহ্ন বা সকালের আলো"

মাক্কী • 11 আয়াত
الضُّحَى
94

সূরাতুল ইনশিরাহ

অর্থ: "বক্ষ প্রশস্তকরণ"

মাক্কী • 8 আয়াত
الشَّرْح
95

সূরাতুত তীন

অর্থ: "ডুমুর বা আঞ্জীর"

মাক্কী • 8 আয়াত
التِّين
96

সূরাতুল আলাক

অর্থ: "রক্তপিণ্ড বা জমাট রক্ত"

মাক্কী • 19 আয়াত
العَلَق
97

সূরাতুল ক্বদর

অর্থ: "মহিমান্বিত রজনী"

মাক্কী • 5 আয়াত
القَدْر
98

সূরাতুল বাইয়্যিনাহ

অর্থ: "সুস্পষ্ট প্রমাণ"

মাদানী • 8 আয়াত
البَيِّنَة
103

সূরা আল-আসর

অর্থ: "সময় বা মহাকাল"

মাক্কী • 3 আয়াত
الْعَصْر
105

সূরা আল-ফীল

অর্থ: "হাতি বা হস্তীবাহিনী"

মাক্কী • 5 আয়াত
الفِيل
106

সূরা কুরাইশ

অর্থ: "কুরাইশ গোত্র"

মাক্কী • 4 আয়াত
قُرَيْش
107

সূরা আল-মাউন

অর্থ: "সাহায্য-সহযোগিতা"

মাক্কী • 7 আয়াত
المَاعُون
108

সূরা আল-কাওসার

অর্থ: "অফুরন্ত নিয়ামত"

মাক্কী • 3 আয়াত
الكَوْثَر
109

সূরা আল-কাফিরুন

অর্থ: "কাফের সম্প্রদায়"

মাক্কী • 6 আয়াত
الكافِرُون
110

সূরা আন-নাসর

অর্থ: "সাহায্য ও বিজয়"

মাদানী • 3 আয়াত
النَّصْر
111

সূরা আল-মাসাদ

অর্থ: "খেজুর পাতার দড়ি"

মাক্কী • 5 আয়াত
المَسَد
112

সূরা আল-ইখলাস

অর্থ: "একনিষ্ঠ খাঁটি বিশ্বাস"

মাক্কী • 4 আয়াত
الإِخْلَاص
113

সূরা আল-ফালাক

অর্থ: "নিশীথ বা ঊষা"

মাক্কী • 5 আয়াত
الفَلَق
114

সূরা আন-নাস

অর্থ: "সমগ্র মানবজাতি"

মাক্কী • 6 আয়াত
النَّاس

🌟 পর্যায়ক্রমে পবিত্র কুরআনের ১১৪টি সূরাই এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হতে যাচ্ছে, ইনশাআল্লাহ।

প্রাথমিক পর্যায়ে প্লে থেকে ৫ম শ্রেণির শিশুদের সিলেবাস অনুযায়ী সাজানো হয়েছে। পরবর্তীতে সকল বয়সের মানুষের জন্য পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ আসবে!

সূরা 01 • মাক্কী সূরা মোট আয়াত: 7 টি

সূরা আল-ফাতিহা الفَاتِحَة

অর্থ: "শুরু বা ভূমিকা" • পূর্ণাঙ্গ প্রার্থনা: সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে সঠিক পথ ও সফলতা চাওয়া।

🎙️ বিশুদ্ধ তিলাওয়াত ও মিষ্টি অনুবাদ

কার্ডে ক্লিক করলেই আয়াতের আরবি, তাজবীদের অর্থ ও অডিও প্লেয়ার বেরিয়ে আসবে।

মাস্টার প্লেয়ার

একটানা পূর্ণাঙ্গ অডিও

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

উচ্চারণ: বিসমিল্লা-হির রহমা-নির রহী-ম

অনুবাদ: "পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।"

🌱 সারকথা: আল্লাহর নামে শুরু না-করলে, কোনো কাজই পূর্ণতা পায় না।
الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ

উচ্চারণ: আলহামদু লিল্লা-হি রব্বিল ‘আ-লামী-ন

অনুবাদ: "সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য, যিনি সকল বিশ্বজগতের প্রতিপালক।"

🌱 সারকথা: জগতের সবটুকু প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য—যিনি বিশ্বজগৎ পরিচালনা করেন।
الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

উচ্চারণ: আর-রহমা-নির রহী-ম

অনুবাদ: "যিনি অতিশয় দয়ালু ও পরম করুণাময়।"

🌱 সারকথা: সমস্ত সৃষ্টির প্রতি তাঁর অফুরান ভালোবাসা ও পরম যত্ন।
مَـٰلِكِ يَوْمِ ٱلدِّينِ

উচ্চারণ: মা-লিকি ইয়াওমিদ্দী-ন

অনুবাদ: "যিনি বিচার দিবসের একমাত্র মালিক ও বিচারক।"

🌱 সারকথা: ভালোবাসেন বলে বান্দা যা ইচ্ছে তাই করবে তা নয়; বিচার দিনে অন্যায়ের বিচার হবে।
إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ

উচ্চারণ: ইয়্যা-কা না‘বুদু ওয়া ইয়্যা-কা নাস্তা‘ঈ-ন

অনুবাদ: "আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবলমাত্র আপনারই কাছে সাহায্য চাই।"

🌱 সারকথা: তাঁকে রব হিসেবে চেনার পর প্রথম কাজ—তাঁরই গোলামি করা ও সাহায্য চাওয়া।
اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ

উচ্চারণ: ইহদিনাস্ সিরা-ত্বল মুস্তাক্বী-ম

অনুবাদ: "হে আল্লাহ! আমাদেরকে সরল-সঠিক পথ প্রদর্শন করুন।"

🌱 সারকথা: যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনিই সর্বোত্তম পথ-প্রদর্শক। তাই তাঁর কাছেই সঠিক পথ চাইতে হবে।
صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ

উচ্চারণ: সিরা-ত্বল্লাযীনা আন‘আমতা ‘আলাইহিম, গইরি-ল মাগদূ-বি ‘আলাইহিম ওয়ালাদ্-দোয়াল্লী-ন

অনুবাদ: "তাদের পথ, যাদের আপনি পুরস্কৃত করেছেন। তাদের পথ নয়, যারা আপনার ক্রোধে পড়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।"

🌱 সারকথা: অনুসরণ করতে হবে সঠিক পথের সৎ মানুষদের; পথভ্রষ্ট ও অবাধ্যদের পথ বর্জন করতে হবে।

📜 নাযিলের ক্রম ও কুরআনের বিন্যাস

তারতীব বিন-নুযূল

নাযিলের ধারাবাহিকতা—তথা কোন সূরার পর নাযিল হয়েছে—তা বিবেচনায় এটি ৫ম সূরা। এর আগে সূরা মুদ্দাসসির ও প

তারতীব ফিল-মুসহাফ

বর্তমান কুরআন মাজীদের বিন্যাস অনুযায়ী এটি একেবারে পয়লা সূরা। শুরুতে আনার কারণ, এ সূরাতে অল্পকথায় তুল

🏷️ এক নজরে ফাতিহা: ৩টি নামের রহস্য

প্রখ্যাত মুফাসসির ড. মিজানুর রহমান আজহারি-র বইয়ের আলোকে

১. ফাতিহাতুল কিতাব

কুরআনের সূচনা। কেননা, কুরআন মাজীদ শুরুই হয়েছে এ-সূরা দিয়ে।

দলিল: তিরমিযি, ৩১২৪

২. উম্মুল কুরআন

কুরআনের মূল বা সারকথা। কেননা, গোটা কুরআনের মূল মেসেজ এতে অল্পকথায় জায়গা পেয়েছে।

দলিল: বাগাবি, তাফসীর, ১/৭০

৩. আস-সাবউল মাসানি

বারবার-পাঠ-করার সাতটি আয়াত। কেননা, সূরা ফাতিহায় সাতটি আয়াত আছে—যেগুলো প্রতি নামাজে বারবার পড়তে হয়।

দলিল: ইবনু কাসীর, তাফসীর, ১/১৪৫

🎯 ৩টি মেজর থিম (Major Themes)

০১

আল্লাহকে চেনা। তাঁর প্রশংসা ও বড়ত্ব ঘোষণা করা।

০২

কেবল তাঁরই গোলামি করা। তাঁর দুয়ারেই হাত পাতা।

০৩

দিন-রাত তাঁর কাছে সঠিক পথের দিশা চাওয়া।

🔄 সূরার শুরু ও শেষ সম্পর্ক

সূরার শুরুতে রব হিসেবে আল্লাহ তাঁর কাজ বা দায়িত্বের কথা জানিয়েছেন। সেটা হলো—বিশ্ব-জগৎ পরিচালনা করা ও বান্দার প্রয়োজন মেটানো। আর শেষে ‘আবদ’ বা বান্দা হিসেবে আমাদের দায়িত্ব ও কাজের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। তা হলো—কেবল তাঁরই দাসত্ব করা।

🔗 অন্য সূরার সঙ্গে সম্পর্ক

সূরা ফাতিহার সম্পর্ক বিশেষ কোনো সূরার সঙ্গে নয়। বরং কুরআনের সবগুলো সূরার সঙ্গেই এর কিছু-না-কিছু সম্পর্ক আছে। মূলত, সূরা ফাতিহার পর বাকি যে ১১৩টি সূরা, সেগুলো সূরা ফাতিহারই বিস্তারিত ব্যাখ্যা। এজন্যই নামাজে সূরা ফাতিহার সঙ্গে অন্য যেকোনো সূরা মিলিয়ে পড়তে হয়।

📖 গল্পের ছলে শানে নুযূল ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

কুরআন কিন্তু গতানুগতিক কোনো বই নয়। কুরআন হলো জীবন-যাপনের প্রেসক্রিপশন। মানুষের একেক দরকারে নেমে এসেছে এর একেক সূরা। তো কোন দরকারে, কী প্রেক্ষাপটে নাযিল হয়েছে একেকটা আয়াত—তার দলিল-দস্তাবেজকেই বলে শানে নুযূল।

প্রায় সবগুলো বিশুদ্ধ তাফসীর ঘেঁটেও সূরা ফাতিহার এরকম কোনো শানে নুযূলের সন্ধান মেলেনি। বোঝাই যাচ্ছে—সূরা ফাতিহা বিশেষ কোনো উপলক্ষ্য নিয়ে নাযিল হয়নি। ওটা বরং মহান রবের পক্ষ থেকে মুসলিম উম্মাহর জন্য এক বিস্ময়কর উপহার।

তবে হ্যাঁ, সূরা ফাতিহা যখন নাযিল হয়, তখনকার মক্কার চাল-চিত্র ঘাঁটাঘাঁটি করলে কিছু ব্যাপার বুঝতে পারা যায়। যেমন: তখন পবিত্র কা’বা-ঘরের আশেপাশে বিস্তর মূর্তিপূজা হতো। সূরা ফাতিহায় আল্লাহ শুনিয়ে দিলেন তাওহীদের মর্মস্পর্শী ঘোষণা—আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও ইবাদাত চলবে না। মূর্তি তো দূরে থাক, অন্য কোনো বিশ্বাস বা মতবাদেরও পূজা করা যাবে না।

আবার, ইসলামের ছায়াতলে আসায় তখনকার মুশরিকরা মুসলিমদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালাচ্ছিল। সূরা ফাতিহায় আল্লাহ শোনালেন সান্ত্বনার বাণী—একটু সবুর করো। বিচার-দিনে যার যা পাওনা, সব মিটিয়ে দেওয়া হবে। আর শেষমেশ সরল পথ চাইতে বলার মাধ্যমে সমগ্র মুসলিম জাতিকে তিনি গেঁথে দিলেন একই সুতোয়। আমাদের তাই একটাই পরিচয়—প্রত্যেকে সরল পথের অনুসারী, ঐক্যবদ্ধ এক জাতি।

(দলিল: সূরা নাহল, ১৬:৮৯; বুখারি, ৫০০০; মুসলিম, ৮০৬, ১৭১৫, ২৫৮৬)

💠 সূরার ৩টি মৌলিক সেগমেন্ট

প্রথম অংশ

আল্লাহ

প্রথম অংশে আল্লাহ নিজের পরিচয় দিয়েছেন।

মাঝের অংশ

আল্লাহ ও বান্দা

মাঝের অংশে আল্লাহ ও বান্দার মাঝে যে চুক্তি—তা মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

শেষ অংশ

বান্দা

আর শেষ অংশে তুলে ধরেছেন বান্দার পরিচয় ও প্রার্থনা।

🌟 ৩টি অনন্য ফজিলত

কুরআনের সবচাইতে মর্যাদাপূর্ণ সূরা

لَأُعَلِّمَنَّكَ أَعْظَمَ سُورَةٍ فِي الْقُرْآنِ

নবিজি এক সাহাবিকে বললেন: "আমি তোমাকে কুরআনের সবচেয়ে মহিমান্বিত একটি সূরা শেখাব। সেই সূরাটি হলো সূরাতুল ফাতিহা।"

(সূত্র: বুখারি, ৪৪৭৪)

রোগের চিকিৎসা ও মহৌষধ

فَاتِحَةُ الْكِتَابِ شِفَاءٌ مِنْ كُلِّ سُمٍّ

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন: "সূরা ফাতিহা সমস্ত রোগের চিকিৎসা ও শেফা।"

(সূত্র: ইবনু কাসীর, তাফসীর, ১/১৪৬)

আসমানের উজ্জ্বল বিশেষ নূর

أَبْشِرْ بِنُورَيْنِ أُوتِيتَهُمَا

একবার জিবরীল (আ.)-এর সঙ্গে বসে ছিলেন নবিজি। এমন সময় আসমানের একটি বিশেষ দরজা খোলার আওয়াজ শোনা গেল। তখন ওটা দিয়ে নেমে এলেন এক ফেরেশতা। নবিজিকে বললেন: "হে আল্লাহর নবি, দুটো আলোর সুসংবাদ গ্রহণ করুন—একটি হলো সূরা ফাতিহা, অন্যটি সূরা বাকারার শেষ কয়েকটি আয়াত।"

(সূত্র: মুসলিম, ৮০৬)

🔤 কিছু শব্দ জানতেই হয় (শব্দার্থ ও দর্শন)

ড. আজহারীর বইয়ের ৪টি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের গভীর তাফসীর

اللَّه আল্লাহ

মূল অর্থ: "একমাত্র উপাস্য রব"

‘আল্লাহ’ শব্দটি এসেছে ‘ইলাহ’ থেকে। ইলাহ মানে এমন এক সত্তা—যাঁর দাসত্ব করে সবকিছু এবং যাঁর ইবাদাত করে সমস্ত সৃষ্টি। (هُوَ الَّذِي يَأْلَهُهُ كُلُّ شَيْءٍ، وَيَعْبُدُهُ كُلُّ خَلْقٍ)

(সূত্র: তাবারি, তাফসীর, ১/১২১)
الرَّحْمَٰن রহমান

মূল অর্থ: "দুনিয়ায় সবার জন্য ভালোবাসা"

‘রহমান’ ও ‘রহীম’ দুটো শব্দই ‘রেহেম’ থেকে এসেছে। রেহেম মানে মায়ের গর্ভ। মা তার গর্ভে ধরেন বলেই সন্তানকে এত ভালোবাসেন। সেখান থেকেই শব্দ দুটোর অর্থ—‘দয়া, করুণা, ভালোবাসা’। তবে ‘রহমান’ বলতে সাধারণ অর্থে ভালোবাসা বোঝায়—যেটা ক্ষণস্থায়ী ও সকল সৃষ্টির জন্য। আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.) বলেন: আল্লাহ তাআলার ‘রহমান’ নামটি এই দুনিয়ার বেলায় প্রযোজ্য। তার মানে, দুনিয়াতে তিনি কাউকেই তাঁর করুণা থেকে দূরে ঠেলে দেন না। একজন মুমিনকে যেমন রিযিক দেন—বাতাস, অক্সিজেন, খাবার বা পানি—একজন কাফিরকেও তিনি এসব নিয়ামত ভোগ করবার সুযোগ দেন। কিন্তু পরকালে তিনি তাঁর ‘রহমান’ গুণটি প্রকাশ করবেন না।

(সূত্র: যাজ্জাজ, তাফসীরু আসমায়িল্লাহিল হুসনা, ২৭-২৮)
الرَّحِيم রহীম

মূল অর্থ: "পরকালে মুমিনদের জন্য বিশেষ ভালোবাসা"

‘রহীম’ বলতে বিশেষ রকমের ভালোবাসা বোঝায়—যেটা চিরস্থায়ী ও কেবল মুমিন বান্দার জন্য। আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.) বলেন: আল্লাহ তাআলার ‘রহীম’ নামটি পরকালের বেলায় প্রযোজ্য। তার মানে, পরকালে কেবল মুমিন বান্দারাই তাঁর করুণা ও ভালোবাসা পেয়ে ধন্য হবেন।

(সূত্র: যাজ্জাজ, তাফসীরু আসমায়িল্লাহিল হুসনা, ২৭-২৮)
عِبَادَة ইবাদাত

মূল অর্থ: "বিনয় ও ভক্তির সাথে আনুগত্য"

ইবাদাত মানে আনুগত্য করা। শুধু আনুগত্য নয়, বরং অতি বিনয় ও ভক্তির সাথে আনুগত্য। আল্লাহ যা করতে বলবেন, বিনাবাক্যে তা মেনে নেওয়াকেই সত্যিকারের ইবাদাত বলে।

(সূত্র: নাহহাস, মাআনিল কুরআন, ১/১০)
কজ অ্যান্ড ইফেক্ট ও গতিপথ

"বন্ধুরা, এই বইয়ের সম্মানিত লেখক ড. আজহারী আঙ্কেল কী বলেছেন জানো? তিনি বলেছেন—বিশ্ব-জগৎ নিয়ে আপনি যত বেশি চিন্তা-ভাবনা করবেন; আল্লাহ তাআলাকে তত বেশি চিনতে পারবেন।"

সেন্ট্রাল থিম: পূর্ণাঙ্গ প্রার্থনা: সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে সঠিক পথ ও সফলতা চাওয়া।

🎯 গতিপথ (The Pathway)

১. আল্লাহর ক্ষমতা ও অনুগ্রহের স্বীকৃতি

আল্লাহ—বিশ্ব-জগতের অধিপতি; রাজাধিরাজ। এ বিশেষণ শুধু তাঁর বেলাতেই সাজে। তবে অসীম ক্ষমতার অধিকারী হলেও, তিনি তাঁর বান্দাদের বেলায় ভীষণ দয়াবান। প্রশংসা কেবল তাঁরই।

২. বিচার দিবসের সত্যায়ন

একমাত্র আল্লাহই এই বিশ্ব-জগৎ সৃষ্টি করেছেন। তিনিই তাঁর বান্দাদের আলো-বাতাস-পানি জুগিয়ে যাচ্ছেন। আর তিনিই কিয়ামতের দিন বান্দার সকল কাজের হিসেব বুঝে নেবেন।

৩. দাসত্বের ঘোষণা ও সাহায্য প্রার্থনা

মহামহিম এই রবের সামনেই কেবল মানুষ মাথা নোয়াতে পারে। আর সাহায্যও চাইতে পারে শুধু তাঁর কাছেই।

৪. সঠিক পথের দিশা

তাঁর কাছে সাহায্য চাইতে হবে—তিনি যেন আমাদেরকে সঠিক পথের দিশা দেন। সেই সাথে বিপথ থেকে যেন আমাদেরকে দূরে সরিয়ে রাখেন।

👥 ৩ দলের বাস্তবধর্মী কেস-স্টাডি

১. সঠিকপথ-প্রাপ্ত দল

এদের জ্ঞান আছে ও সে-অনুযায়ী কাজও করে—নবি-রাসূল, সিদ্দীক, শহীদ ও সৎ-বান্দাগণ।

২. আল্লাহর গযব-প্রাপ্ত দল

জ্ঞান আছে ঠিকই, কিন্তু সে-অনুযায়ী কাজ করে না—ইহুদিরা এ দলের আওতায়।

৩. পথভ্রষ্ট দল

এরা টুকটাক ধর্মকর্ম করে, কিন্তু সেটা জ্ঞানের ভিত্তিতে নয়। মানে, আমল আছে কিন্তু ইলম নেই। পথভ্রষ্টদের সবচেয়ে ভালো উদাহরণ খ্রিস্টানরা।

কুরআনে আল্লাহ অসংখ্য ঘটনার মাধ্যমে বারবার আমাদের সামনে এই তিন দলের পরিচয় স্পষ্ট করেছেন। সঠিক পথের অনুসারী—আমাদের প্রিয় নবি (সা.), নূহ, ইবরাহীম, মূসা ও অন্যান্য নবিগণ। এ ছাড়াও সঠিক পথ পেয়েছেন লুকমান ও আসহাবে কাহফের যুবকেরা। তাদের ঘটনাগুলো নিয়েও নিবিড় গবেষণা করে দেখতে হবে।
(সূত্র: তাবারি, তাফসীর, ১/১৭৬; ইবনু কাসীর, তাফসীর, ১/২১৫)

📊 আয়াতভিত্তিক ওভারভিউ ছক

আয়াত ওভারভিউ / সারসংক্ষেপ
1 আল্লাহর নামে শুরু না-করলে, কোনো কাজই পূর্ণতা পায় না।
2 জগতের সবটুকু প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য—যিনি বিশ্বজগৎ পরিচালনা করেন।
3 সমস্ত সৃষ্টির প্রতি তাঁর অফুরান ভালোবাসা ও পরম যত্ন।
4 ভালোবাসেন বলে বান্দা যা ইচ্ছে তাই করবে তা নয়; বিচার দিনে অন্যায়ের বিচার হবে।
5 তাঁকে রব হিসেবে চেনার পর প্রথম কাজ—তাঁরই গোলামি করা ও সাহায্য চাওয়া।
6 যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনিই সর্বোত্তম পথ-প্রদর্শক। তাই তাঁর কাছেই সঠিক পথ চাইতে হবে।
7 অনুসরণ করতে হবে সঠিক পথের সৎ মানুষদের; পথভ্রষ্ট ও অবাধ্যদের পথ বর্জন করতে হবে।

💡 রিফ্লেকশনস / তাদাব্বুর

🌟 ১. ‘বিসমিল্লাহ’—ভীষণ পাওয়ারফুল নেটওয়ার্কিং

‘বিসমিল্লাহ’—কথাটি শুনতে খুব ছোট, কিন্তু ভীষণ পাওয়ারফুল। এটা আপনাকে সরাসরি আল্লাহ তাআলার সঙ্গে নেটওয়ার্কিং করিয়ে দেয়। কোনো কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা মানে—কাজটি এখন আর আপনার একার নয়। বরং আপনার সাহায্যে এগিয়ে আসবেন আল্লাহ নিজেই। তখন বসে না থেকে এগিয়ে আসবেন ফেরেশতারাও। বিশ্ব-জগতের সবকিছু আপনার কাজটি বেগবান করতে তৎপর হয়ে উঠবে। এছাড়া বিসমিল্লাহ বলে দুনিয়াবি কাজ শুরু করলেও তা নেক আমলের খাতায় জমা হয়।

(সূত্র: নববি, আল-আযকার, ১৪৩)

🌟 ২. সূরা ফাতিহা আমাদের দোয়ার আদব শেখায়

বান্দা যখন দুআ করবে, তখন শুরুতে তার দয়ালু রব ও মালিকের প্রশংসা করবে। তাঁর সুন্দর সুন্দর নাম ধরে ডেকে ডেকে তাঁর কাছে চাইবে। তাঁকে ডাকবে ভয় আর আশা নিয়ে। দুআতে শুধু ভালো বিষয়গুলোই চাইবে না; মন্দ জিনিস থেকে মুক্তি পাবার জন্যও দুআ করবে।

(সূত্র: ইবনু কাসীর, তাফসীর, ১/২০৮)

🌟 ৩. ‘সঠিক পথ’ মানে—সঠিক সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা

‘সঠিক পথ’ মানেটা কী আসলে? সহজ উত্তর—ইসলাম। কিন্তু এর অন্য একটি দিকও আছে। ‘সঠিক পথ’ মানে—সকল ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতা। ধরুন, আপনি একটা কিছু করতে গিয়ে খটকায় পড়ে গেছেন। ভাবছেন কাজটা ঠিক হচ্ছে কি না। ওই সময় ‘ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাক্বীম’ (আমাকে সঠিক পথ দেখাও) এই ছোট্ট দুআটি আপনার জন্য আঁধার রাতে মশাল হয়ে হাজির হবে। তাই যেকোনো সিদ্ধান্ত নেবার আগে একবার হলেও পড়ে নিন—সূরা ফাতিহা।

(সূত্র: তাবারি, তাফসীর, ১/১৭৪)

🎮 সূরা ফাতিহা জ্ঞান পরীক্ষা ও মূল্যায়ন

সঠিক উত্তর না দেওয়া পর্যন্ত বাচ্চারা চিন্তা করে বারবার চেষ্টা করতে পারবে।

📝 বিভাগ ক: বহুনির্বাচনী কুইজ (MCQ)

১. কুরআন মাজীদের মোট ১১৪টি সূরার মধ্যে "সূরা আল-ফাতিহা" কততম সূরা?
মাশাআল্লাহ! ব্যাখ্যা: বর্তমান কুরআনের বিন্যাস অনুযায়ী সূরা ফাতিহাই হলো প্রথম এবং সূচনাকারী সূরা।
২. সূরা ফাতিহার আরেকটি সুন্দর নাম হলো "উম্মুল কুরআন"—এর অর্থ কী?
মাশাআল্লাহ! ব্যাখ্যা: পুরো কুরআনের সারসংক্ষেপ অল্পকথায় এতে তুলে ধরা হয়েছে বলেই একে উম্মুল কুরআন বলা হয়।
৩. বিসমিল্লাহ বলে যেকোনো ভালো কাজ শুরু করলে বান্দাকে সাহায্য করতে কারা এগিয়ে আসেন?
মাশাআল্লাহ! ব্যাখ্যা: বিসমিল্লাহ সরাসরি আল্লাহর সাথে কানেক্ট করে দেয় এবং কাজে আল্লাহর বিশেষ বরকত আসে।
৪. নামাজে আমরা আল্লাহর কাছে কোন পথটি দেওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে প্রার্থনা করি?
মাশাআল্লাহ! ব্যাখ্যা: সিরাতাল মুস্তাক্বীম মানে হলো সত্যের পথ এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা।

✍️ বিভাগ খ: চিন্তাশীল ও সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

বাচ্চারা চোখ দিয়ে পড়তে পারবে এবং রুফাঈদার কণ্ঠে উত্তর শুনতেও পারবে

১. সূরা ফাতিহাকে ‘উম্মুল কুরআন’ বা কুরআনের মূল সারকথা কেন বলা হয়?

মান: 2
মডেল উত্তর: পুরো কুরআনে আল্লাহ তাআলা যে জীবন-বিধান ও মূল বার্তা দিয়েছেন, তার সবকিছুই সংক্ষেপে এবং অল্পকথায় সূরা ফাতিহার সাতটি আয়াতে তুলে ধরা হয়েছে। তাই একে কুরআনের মা বা উম্মুল কুরআন বলা হয়।

২. যেকোনো কাজের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ বলার অলৌকিক পাওয়ার কী?

মান: 2
মডেল উত্তর: বিসমিল্লাহ বললে বান্দা সরাসরি মহান আল্লাহর সাথে কানেক্ট হয়ে যায়। তখন সেই কাজে আল্লাহ নিজে সাহায্য করেন এবং ফেরেশতারাও এগিয়ে আসেন। এমনকি দুনিয়াবি সাধারণ কাজও সওয়াবের আমলে পরিণত হয়।

৩. সূরা ফাতিহা থেকে আমরা দোয়া করার কী আদব বা নিয়ম শিখতে পারি?

মান: 2
মডেল উত্তর: দোয়ার আসল আদব হলো—শুরুতেই কোনো কিছু না চেয়ে প্রথমে আল্লাহর দয়া, ক্ষমতা ও সুন্দর নামের প্রাণভরে প্রশংসা করা। তারপর বিনম্রভাবে নিজের প্রয়োজন ও হেদায়েতের জন্য আল্লাহর কাছে হাত পাতা।

৪. ‘ইহদিনাস সিরাতাল মুস্তাক্বীম’ দোয়ার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর কাছে কী চাই?

মান: 2
মডেল উত্তর: এর মাধ্যমে আমরা আল্লাহর কাছে সরল-সঠিক পথের দিশা চাই। একই সাথে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ভালো-মন্দের দোলাচলে পড়ে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঐশ্বরিক ক্ষমতা ও প্রজ্ঞা প্রার্থনা করি।

৫. সূরা ফাতিহায় মানুষজাতিকে যে ৩টি দলে ভাগ করা হয়েছে, তাদের পরিচয় সংক্ষেপে লেখো।

মান: 2
মডেল উত্তর: ১ম দল: সঠিকপথ-প্রাপ্ত (যাদের জ্ঞান আছে এবং আমলও করে—যেমন নবিগণ)। ২য় দল: গযব-প্রাপ্ত (যাদের জ্ঞান আছে কিন্তু অহংকারে আমল করে না—যেমন ইহুদিরা)। ৩য় দল: পথভ্রষ্ট (যাদের সঠিক জ্ঞান নেই কিন্তু না বুঝে আমল করে—যেমন খ্রিস্টানরা)।

🎬 রুফাঈদার পাঠশালা ভিডিও গ্যালারি

বাচ্চারা নিরাপদ পরিবেশে এই প্ল্যাটফর্ম থেকেই সকল কুরআনিক অ্যানিমেশন দেখতে পারবে।

গল্পে গল্পে সূরা ফীল • আবরাহার হস্তীবাহিনী

৩ডি অ্যানিমেশন ও রুফাঈদার পাঠশালা স্পেশাল পর্ব

মালিকুল মুলক • সূরা আল-ইমরান

আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ও ক্ষমতা নিয়ে শিক্ষণীয় কার্টুন

📲

অ্যাপ হিসেবে ইনস্টল করুন!

প্রতিবার ব্রাউজারে না ঢুকে, এক ক্লিকে সরাসরি আপনার মোবাইলের স্ক্রিন থেকে কুরআন শিখুন।